শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:০০ অপরাহ্ন
লুটের টাকা যাবে জনগণের কাজে, নয় নেতাদের পকেটে!
অনলাইন ডেস্ক
লুটপাট ও বিদেশে অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগে শেখ পরিবারসহ দেশের ১০ প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর প্রায় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকার সম্পদ ও অর্থ জব্দ করেছে সরকার। এই বিপুল অঙ্কের অর্থের মাধ্যমে একটি ‘লুটের টাকা ব্যবস্থাপনা তহবিল’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন, যা পরিচালনা করবে সরাসরি সরকার নিজেই।
সোমবার (১৯ মে) পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান এ এফ এম শাহিনুর ইসলাম।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণমাধ্যমকে জানান, শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের পাশাপাশি ১০টি প্রভাবশালী শিল্পগোষ্ঠীর এক লাখ ৩০ হাজার ৭৫৮ কোটি টাকার অর্থ আদালতের নির্দেশে অ্যাটাচমেন্টে আছে। এর বাইরে রয়েছে ১৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার সমমূল্যের (প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা) বিদেশি মুদ্রা এবং ৪২ হাজার ৬১৪ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ ফ্রিজ করা অবস্থায়। এছাড়া বিদেশে থাকা আরও ২৫৩ কোটি টাকার (২ কোটি ৭ লাখ ডলার) সম্পদও ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। এসব অর্থ থেকেই ‘লুটের টাকা ব্যবস্থাপনা তহবিল’ গঠন করা হবে, যা সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সরকার গঠিত ১১টি তদন্ত দলের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। শেখ পরিবার ও ১০টি শিল্পগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে ব্যাংক ঋণে ভয়াবহ অনিয়ম, কর ফাঁকি এবং আন্তর্জাতিক অর্থপাচারের নথিপত্র। তদন্তে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির চিত্র পাওয়া গেছে এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ প্রণয়নের উদ্যোগ নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে টাকার সন্ধানে কাজ চলছে, যেখানে সহায়তা করছে বিশ্বব্যাংকের তত্ত্বাবধানে গঠিত পাচার প্রতিরোধে অভিজ্ঞ এক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “আমরা আদালতের নির্দেশ এবং প্রয়োজনে আইনের সংশোধনের মাধ্যমে তহবিল গঠন করব। একটি অংশ দিয়ে ব্যাংকগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, যেহেতু তারা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর অবশিষ্ট অর্থ ব্যয় করা হবে জনহিতকর খাতে, যা সরাসরি সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের হাতে এই ধরনের অর্থ ফেরত আনার বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই। তবে আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানি। সাধারণত এ প্রক্রিয়া ৪-৫ বছর সময় নেয়। তবে তাৎক্ষণিক কিছু পদক্ষেপ যেমন—বিদেশে সম্পদ ফ্রিজ করানো—প্রায় এক বছরের মধ্যে করা সম্ভব।”
তিনি বলেন, “প্রথমে দেশের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, তারপর আন্তর্জাতিকভাবে ‘মিউচ্যুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স’ (এমএলএ) প্রক্রিয়ায় রিকোয়েস্ট পাঠাতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে সে পথে এগোচ্ছি।”